আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রথম দিনেই বঞ্চিত ৪০ স্কুল, অভিভাবকদের ক্ষোভ!
খাবার না পাওয়া স্কুলগুলোর অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, "আমরা শুনেছি সব স্কুলে খাবার দেওয়া হবে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা খালি হাতে ফিরেছে। সরকারি কর্মসূচির প্রথম দিনেই এমন বৈষম্য কাম্য নয়।"
আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রথম দিনেই বঞ্চিত ৪০ স্কুল, অভিভাবকদের ক্ষোভ! | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মসূচি শুরু হলেও প্রথম দিনেই হোঁচট খেয়েছে প্রকল্পটি। উপজেলার ১১০টি স্কুলের মধ্যে প্রায় ৪০টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা খাবার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
রোববার (২৯ মার্চ, ২০২৬) সকাল ১০টায় আনোয়ারা উপজেলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: হিন্দোল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে ইউএনও বলেন, "শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং উপস্থিতি বাড়াতে সরকারি ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কলা, বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুট প্রদান করা হবে।" অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিটি ১১০টি বিদ্যালয়ে চালুর কথা থাকলেও প্রথম দিনেই ব্যাপক অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আনোয়ারা সদরে অবস্থিত 'আনোয়ারা সরস্বতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'তৈলারদ্বীপ বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' সহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি বিদ্যালয়ের নাম তালিকায় থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ৪০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো খাবার পায়নি।
খাবার না পাওয়া স্কুলগুলোর অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, "আমরা শুনেছি সব স্কুলে খাবার দেওয়া হবে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা খালি হাতে ফিরেছে। সরকারি কর্মসূচির প্রথম দিনেই এমন বৈষম্য কাম্য নয়।"
উপজেলার অর্ধেকের বেশি স্কুলে ফিডিং কর্মসূচি চালু হলেও বাকি স্কুলগুলো কেন বঞ্চিত হলো তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হওয়ায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য বিভাগ শীঘ্রই চালু হবে।