ব্রেকিং
আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা গ্রেফতার কর্ণফুলীতে দুর্ধর্ষ চুরিঃ প্রশাসনের ভূমিকায় এলাকাবাসীর উদ্বেগ পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধঃ কর্ণফুলীতে বন্ধুর হাতে ব্যবসায়ী খুন আনোয়ারায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, আবেদন শুরু কাঁচামালের অভাবে স্থবির হচ্ছে ডিএপি সার কারখানা আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ঃ ফাঁসির দড়িতে দুই ঘাতক আনোয়ারায় মা'কে নির্যাতনকারী সেই গেম আসক্ত যুবক আটক! পরৈকোড়ায় গোয়ালঘরের তালা ভেঙে আড়াই লাখ টাকার গরু চুরি রায়পুরে জামায়াতের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা গ্রেফতার কর্ণফুলীতে দুর্ধর্ষ চুরিঃ প্রশাসনের ভূমিকায় এলাকাবাসীর উদ্বেগ পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধঃ কর্ণফুলীতে বন্ধুর হাতে ব্যবসায়ী খুন আনোয়ারায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, আবেদন শুরু কাঁচামালের অভাবে স্থবির হচ্ছে ডিএপি সার কারখানা আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ঃ ফাঁসির দড়িতে দুই ঘাতক আনোয়ারায় মা'কে নির্যাতনকারী সেই গেম আসক্ত যুবক আটক! পরৈকোড়ায় গোয়ালঘরের তালা ভেঙে আড়াই লাখ টাকার গরু চুরি রায়পুরে জামায়াতের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আলোকবর্তিকা আনোয়ারার শামসুল হুদা চৌধুরীঃ কর্মবীর এক মহান ব্যক্তির স্মরণে

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ২:৩৯ সময়
আলোকবর্তিকা আনোয়ারার শামসুল হুদা চৌধুরীঃ কর্মবীর এক মহান ব্যক্তির স্মরণে

আলোকবর্তিকা আনোয়ারার শামসুল হুদা চৌধুরীঃ কর্মবীর এক মহান ব্যক্তির স্মরণে | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা

এমন জীবন তুমি করিও গঠন, মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন। কবিগুরুর এই কালজয়ী পঙক্তিটি যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বরৈয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মরহুম শামসুল হুদা চৌধুরীর জীবনের সাথে। আজ ৩রা এপ্রিল; এই মহৎপ্রাণ মানুষটির ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের আজকের এই দিনেই তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছিলেন না ফেরার দেশে। তবে দেহান্ত ঘটলেও তিনি আজও বেঁচে আছেন তাঁর অক্ষয় কীর্তির মাঝে।

১৯২২ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মনু মিয়ার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন শামসুল হুদা চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেধা ও মনন ছিল প্রখর। তৎকালীন সময়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি আনোয়ারা থানার ফুড ইন্সপেক্টর হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে একজন নিভৃতচারী সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে।

 

শামসুল হুদা চৌধুরী বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার আলো ছাড়া একটি সমাজ কখনোই অন্ধকারমুক্ত হতে পারে না। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অঢেল সম্পদের মোহ তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি, বরং সেই সম্পদ তিনি অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন গ্রাম ও এলাকাবাসীর উন্নয়নে।

নিজ পিতার নামের আদ্যক্ষর দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'পূর্ব বরৈয়া টি.এম.সি উচ্চ বিদ্যালয়'। শিক্ষার ভিত মজবুত করতে নির্মাণ করেন 'পূর্ব বরৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'।
আজও এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষার আলো নিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে উঠছে।

কেবল শিক্ষাই নয়, জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে নিজের প্রয়াত পুত্রের স্মরণে তিনি গড়ে তুলেছিলেন 'মর্তুজা মেমোরিয়াল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স'। এছাড়া জ্ঞানপিপাসুদের জন্য পাঠাগার এবং ধর্মীয় চর্চার প্রসারে নিজ বাড়ির সামনে নির্মাণ করেছেন মসজিদ ও মাদ্রাসা। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়েও গ্রামীণ অবকাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই ছিল তাঁর জীবনের মূল ব্রত।

প্রচারবিমুখ এই মানুষটি সারাজীবন নিভৃতে কাজ করে গেছেন। বর্তমানের আত্মপ্রচারের যুগে তাঁর মতো নিঃস্বার্থ ব্যক্তিত্ব বিরল। তবে প্রবাদ আছে,"মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাঝে, বয়সের মধ্যে নয়।" শামসুল হুদা চৌধুরীও তাঁর কর্মের মাধ্যমেই পূর্ব বরৈয়াবাসীর হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ পূর্ব বরৈয়া গ্রামবাসী এবং বিশেষ করে 'পূর্ব বরৈয়া টি.এম.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে'র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে তাঁর স্মৃতিচারণ করে দোয়া প্রার্থনা করছেন।

এলাকাবাসীর একটাই প্রার্থনা, মহান আল্লাহ যেন এই মহৎপ্রাণ কর্মবীরকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শামসুল হুদা চৌধুরীর ত্যাগ ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে নেবে, এটাই হোক আজকের দিনের প্রত্যাশা

ট্যাগ: #স্মরণ #শামসুল হুদা চৌধুরী #পূর্ব বরৈয়া টিএমসি উচ্চ বিদ্যালয়
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।